
—
প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের ওপর বাংলাদেশে কি কোনো আয়কর বা ট্যাক্স আছে?
না, কোনো প্রকার আয়কর বা ট্যাক্স নেই। বাংলাদেশ আয়কর আইন ২০২৩ ও ২০২৬-এর সংশোধনী অনুযায়ী, কোনো অনিবাসী বাংলাদেশি (NRB) যদি বিদেশে অর্জিত অর্থ বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল বা অনুমোদিত রেমিট্যান্স মাধ্যমের সাহায্যে দেশে পাঠান, তবে সেই আয়ের ওপর ১০০% কর অব্যাহতি (Tax Exemption) দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, রেমিট্যান্সের ওপর ১ টাকাও ট্যাক্স কাটা হয় না।
১. জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) রেমিট্যান্স কর নীতি
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘমেয়াদী নীতিমালার আওতায় প্রবাসী আয়কে সম্পূর্ণ করমুক্ত রাখা হয়েছে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং প্রবাসীদের ত্যাগকে সম্মান জানিয়ে এই কর অব্যাহতি বলবৎ রয়েছে। তবে এই সুবিধা পাওয়ার জন্য অন্যতম প্রধান শর্ত হলো অর্থটি অবশ্যই বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে বাংলাদেশে আসতে হবে।
ট্যাক্স-ফ্রি সুবিধা এবং দৈনিক হালনাগাদ ব্যাংকিং রেট দেখতে আমাদের মূল রেমিট্যান্স সহায়িকা How to Check Taka Rate Today Accurately ব্রাউজ করুন।
২. আয়কর রিটার্নে প্রবাসী আয় কীভাবে প্রদর্শন করবেন?
যদিও রেমিট্যান্সের ওপর কোনো কর নেই, কিন্তু দেশে জমি, ফ্ল্যাট বা বড় অংকের সম্পদ কেনার সময় উৎসের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আয়কর রিটার্নে প্রবাসী আয় সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে হয়:
- ট্যাক্স রিটার্ন ফরমের করমুক্ত আয়ের কলাম: বার্ষিক আয়কর রিটার্নের “Tax Exempted Income” (কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত আয়) সেকশনে রেমিট্যান্সের মোট অংক উল্লেখ করতে হবে।
- ব্যাংক এনক্যাশমেন্ট সার্টিফিকেট: যে ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে সেখান থেকে এনক্যাশমেন্ট সার্টিফিকেট বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করে রাখুন।
- সম্পদ প্রদর্শন: রেমিট্যান্সের টাকায় কেনা জমি বা সঞ্চয়পত্রকে সরাসরি লিগ্যাল এসেট হিসেবে দেখানো যায়, যার ফলে ভবিষ্যতে কোনো অডিটের মুখোমুখি হতে হয় না।
৩. প্রবাসী আয়ের বিভিন্ন খাতের কর স্ট্যাটাস
| আয়ের খাত | কর প্রযোজ্যতা (ট্যাক্স হার) | আইনি শর্ত |
|---|---|---|
| বিদেশে চাকরি বা ব্যবসার বেতন/মুনাফা | ০% (সম্পূর্ণ করমুক্ত) | বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রেরিত হতে হবে। |
| ২.৫% সরকারি নগদ প্রণোদনা | ০% (করমুক্ত ক্যাশ বোনাস) | সরাসরি ব্যাংকে ক্রেডিট। |
| ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ডের মুনাফা | ০% (ট্যাক্স-ফ্রি মুনাফা) | বিদেশি রেমিট্যান্স থেকে ক্রয়কৃত হতে হবে। |
৪. অবৈধ পথে টাকা পাঠালে ট্যাক্সের বিপদ
যদি কোনো প্রবাসী হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠান, তবে সেই টাকার কোনো ব্যাংকিং রেকর্ড থাকে না। ফলে সেই টাকায় দেশে কোনো স্থাবর সম্পত্তি কিনলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড তাকে অপ্রদর্শিত বা কালো টাকা হিসেবে গণ্য করতে পারে এবং জরিমানা ও কর ধার্য করতে পারে। সুতরাং নিজের কষ্টার্জিত অর্থকে সুরক্ষিত রাখতে সর্বদা অফিসিয়াল চ্যানেলে টাকা পাঠানো উচিত।
৫. সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
প্রশ্ন ১: প্রবাসীদের কি বাংলাদেশে টিআইএন (TIN) সার্টিফিকেট থাকা বাধ্যতামূলক?
উত্তর: রেমিট্যান্স গ্রহণের জন্য কোনো টিআইএন প্রয়োজন নেই। তবে দেশে জমি রেজিস্ট্রেশন বা গাড়ি কেনার মতো বড় আর্থিক কাজের জন্য ই-টিআইএন প্রয়োজন হতে পারে।
প্রশ্ন ২: রেমিট্যান্সের টাকায় কেনা সঞ্চয়পত্রে কি ট্যাক্স দিতে হয়?
উত্তর: ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ড ও ইউএস ডলার বন্ড সম্পূর্ণ করমুক্ত। তবে সাধারণ পরিবার সঞ্চয়পত্রে সরকার নির্ধারিত উৎস কর প্রযোজ্য হতে পারে।



