প্রবাসীদের জন্য অফশোর ব্যাংকিং ফিক্সড ডিপোজিট ও এনএফসিডি একাউন্ট খোলার পূর্ণাঙ্গ গাইড ২০২৬

১. অফশোর ব্যাংকিং কী ও বাংলাদেশে এর আইনি কাঠামো
অফশোর ব্যাংকিং হলো একটি দেশের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে থেকেও অনাবাসী ব্যক্তি বা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ নিয়ন্ত্রক নীতিমালার অধীনে পরিচালিত ব্যাংকিং ব্যবস্থা। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রণীত অফশোর ব্যাংকিং আইন ও আধুনিক নীতিমালার মাধ্যমে দেশের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো নিজস্ব ‘অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট’ (Offshore Banking Unit – OBU) স্থাপন করেছে।
এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যাংকিং চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রা জমা রাখতে উৎসাহিত করা। প্রচলিত অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিংয়ের সাথে অফশোর ব্যাংকিংয়ের প্রধান পার্থক্য হলো—এখানে সব ধরনের হিসাব ও লেনদেন সরাসরি আন্তর্জাতিক বৈদেশিক মুদ্রায় পরিচালিত হয় এবং দেশের স্থানীয় মুদ্রার বিনিময় হারের ওঠানামা থেকে বিনিয়োগ সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকে।

বৈধ পথে দেশে অর্থ প্রেরণের প্রণোদনা সম্পর্কে জানতে আমাদের রেমিট্যান্স প্রণোদনা নীতিমালা গাইড দেখুন। একইসাথে করমুক্ত আয়ের নীতিমালা বুঝতে চোখ রাখুন রেমিট্যান্সে শতভাগ করমুক্ত সুবিধা পেজে।
২. বাংলাদেশে ডলারে ব্যাংক একাউন্ট করার নিয়ম: প্রধান হিসাবসমূহের পার্থক্য
বাংলাদেশে ডলারে ব্যাংক একাউন্ট করার নিয়ম পর্যালোচনা করলে মূলত তিনটি প্রধান অ্যাকাউন্ট মডেল পরিলক্ষিত হয়, যা বিভিন্ন ক্যাটাগরির আমানতকারীদের জন্য উপযোগী:
১. অফশোর ব্যাংকিং ফিক্সড ডিপোজিট (OB-FD)
এটি প্রবাসীদের জন্য সবচেয়ে আধুনিক ও লাভজনক ফিক্সড ডিপোজিট। এখানে ৩ মাস, ৬ মাস, ১ বছর বা তদূর্ধ্ব মেয়াদের জন্য ডলার জমা রাখা যায়। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক সুদের হারের সাথে যুক্ত থাকায় এতে বৈশ্বিক ব্যাংকের চেয়েও বেশি রিটার্ন পাওয়া যায়।
২. নন-রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট (NFCD)
অনাবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ঐতিহ্যবাহী মেয়াদী বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব। এতে ১ মাস থেকে ৩ বছর মেয়াদে ডলার, পাউন্ড বা ইউরো ফিক্সড ডিপোজিট হিসেবে জমা রাখা হয়।
৩. রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট (RFCD)
বিদেশ ভ্রমণ বা প্রবাস থেকে দেশে প্রত্যাবর্তনের পর সাথে আনা অপ্রদর্শিত ডলার জমা রাখার অ্যাকাউন্ট। এতে একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত নগদ ডলার কোনো উৎস প্রদর্শন ছাড়াই জমা রাখা সম্ভব।
আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং চ্যানেল ও এক্সচেঞ্জ হাউসের নিরাপত্তা পার্থক্য বুঝতে পড়তে পারেন আমাদের ব্যাংক ওয়্যার বনাম এক্সচেঞ্জ হাউস বিশ্লেষণ।
৩. এনএফসিডি একাউন্ট খোলার নিয়ম ২০২৬ বনাম আরএফসিডি: সুবিধা ও কর নীতি
এনএফসিডি একাউন্ট খোলার নিয়ম ২০২৬ এবং আরএফসিডি একাউন্টের মধ্যে তুলনাটি আমানতকারীদের সিদ্ধান্ত নিতে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করে:
| বৈশিষ্ট্য ও শর্তাবলী | এনএফসিডি (NFCD) অ্যাকাউন্ট | আরএফসিডি (RFCD) অ্যাকাউন্ট | অফশোর ব্যাংকিং ফিক্সড ডিপোজিট (OBU-FD) |
|---|---|---|---|
| যোগ্য আমানতকারী | প্রবাসী বাংলাদেশি (NRB) ও বিদেশি নাগরিক | দেশে বসবাসকারী (বিদেশ ফেরত নাগরিক) | অনাবাসী বাংলাদেশি ও আন্তর্জাতিক আমানতকারী |
| আমানতের মুদ্রা | USD, EUR, GBP, CAD, AUD | USD, EUR, GBP, SGD | প্রধান আন্তর্জাতিক মুদ্রাসমূহ (USD প্রধান) |
| মুনাফা বা সুদের হার | বেঞ্চমার্কের ওপর ভিত্তি করে (সাধারণত ৫% – ৬.৫%) | তুলনামূলক কম (সাধারণত ৪% – ৫.৫%) | সর্বোচ্চ মুনাফা (৭.৫০% – ৮.৫০% পর্যন্ত) |
| আয়কর ও উইথহোল্ডিং ট্যাক্স | সম্পূর্ণ করমুক্ত (০% ট্যাক্স) | অর্জিত সুদের ওপর প্রযোজ্য কর প্রযোজ্য হতে পারে | সম্পূর্ণ করমুক্ত (শতভাগ রাষ্ট্রীয় ছাড়) |
| মুনাফাসহ বিদেশে ফেরত সুবিধা | সম্পূর্ণ অবাধ (ফ্রিলি রিপ্যাট্রিয়েবল) | শর্তসাপেক্ষে আন্তর্জাতিক কার্ডে খরচযোগ্য | সম্পূর্ণ অবাধ ও স্বয়ংক্রিয় স্থানান্তরযোগ্য |

সৌদি আরব থেকে রেমিট্যান্স প্রেরকদের জন্য সহায়ক পেজ সৌদি রিয়াল টাকার রেট আজ। দুবাই প্রবাসীরা দেখতে পারেন দুবাই দেরহাম টু টাকা রেট।
৪. ডলারে এফডিআর করে সর্বোচ্চ সুদ পাওয়ার নিয়ম ও মুনাফার হিসাব
ডলারে এফডিআর করে সর্বোচ্চ সুদ পাওয়ার নিয়ম নির্ভর করে আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারের পলিসি রেট এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অফশোর ফ্রেমওয়ার্কের ওপর। বর্তমানে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকগুলো (যেমন সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক ইত্যাদি) সিকিউরড ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেট (SOFR)-এর সাথে ২.৫০% থেকে ৩.৫০% পর্যন্ত অতিরিক্ত মার্জিন যুক্ত করে সুদের হার নির্ধারণ করে থাকে।
মুনাফা নির্ধারণের ফর্মুলা
কার্যকর সুদের হার = বেঞ্চমার্ক রেট (SOFR) + ব্যাংক প্রদত্ত স্প্রেড মার্জিন
| আমানতের মেয়াদকাল | আনুমানিক গড় বার্ষিক সুদের হার | ১০,০০০ ডলার আমানতে সম্ভাব্য বার্ষিক লাভ | ২৫,০০০ ডলার আমানতে সম্ভাব্য বার্ষিক লাভ |
|---|---|---|---|
| ৩ মাস মেয়াদী এফডিআর | প্রায় ৭.২৫% – ৭.৫০% | প্রায় ১৮১ – ১৮৮ ডলার (ত্রৈমাসিক) | প্রায় ৪৫৩ – ৪৬৯ ডলার (ত্রৈমাসিক) |
| ৬ মাস মেয়াদী এফডিআর | প্রায় ৭.৭৫% – ৮.০০% | প্রায় ৩৮৭ – ৪০০ ডলার (অর্ধবার্ষিক) | প্রায় ৯৬৮ – ১,০০০ ডলার (অর্ধবার্ষিক) |
| ১ বছর মেয়াদী এফডিআর | প্রায় ৮.২৫% – ৮.৫০% | প্রায় ৮২৫ – ৮৫০ ডলার (বার্ষিক) | প্রায় ২,০৬২ – ২,১২৫ ডলার (বার্ষিক) |
| ৩ বছর বা তদূর্ধ্ব মেয়াদ | বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী ফ্লোটিং / ফিক্সড | চক্রবৃদ্ধি হারে দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধি | চক্রবৃদ্ধি হারে দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধি |
কুয়েতে কর্মরত প্রবাসীরা স্থানীয় দিনার মূল্যায়নের জন্য দেখতে পারেন কুয়েত দিনার টু টাকা রেট। কাতার প্রবাসীদের জন্য রয়েছে কাতার রিয়াল রেট টুডে।
৫. অফশোর ব্যাংকিং ফিক্সড ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট খোলার পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া
প্রবাসীদের সুবিধার্থে দেশের বেশিরভাগ প্রথম সারির ব্যাংক সম্পূর্ণ ডিজিটাল ই-কেওয়াইসি (e-KYC) প্রক্রিয়ায় বিদেশে বসেই অ্যাকাউন্ট খোলার ব্যবস্থা করেছে। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে আপনি সহজেই আপনার ডলার ফিক্সড ডিপোজিট খুলতে পারেন:

ধাপ ১: ব্যাংক নির্বাচন ও অনলাইন আবেদন ফর্ম পূরণ
বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত অফশোর ব্যাংকিং পরিচালনাকারী যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের ওয়েবসাইটে যান এবং ‘Offshore Banking Fixed Deposit’ আবেদন লিঙ্কে ক্লিক করুন। আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, দেশের স্থায়ী ঠিকানা এবং প্রবাসের বর্তমান ঠিকানা পূরণ করুন।
ধাপ ২: পরিচয় ও বৈধ আয়ের নথিপত্র আপলোড
নিম্নলিখিত প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের পরিষ্কার ডিজিটাল স্ক্যান কপি আপলোড করুন:
- মূল বাংলাদেশি পাসপোর্টের ছবিযুক্ত পাতার স্ক্যান কপি এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (যদি থাকে)।
- বৈধ বিদেশি ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিট (আকামা, রেসিডেন্স কার্ড ইত্যাদি)।
- কর্মস্থলের এমপ্লয়মেন্ট সার্টিফিকেট, পে-স্লিপ অথবা প্রবাসের ব্যাংক হিসাবের সাম্প্রতিক ৩ মাসের স্টেটমেন্ট।
- মনোনীত নমিনির জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টের কপি এবং এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
ধাপ ৩: অনলাইন ভিডিও কেওয়াইসি (Video KYC) সম্পন্নকরণ
নথিপত্র যাচাই শেষে ব্যাংকের নির্ধারিত কর্মকর্তা একটি সংক্ষিপ্ত লাইভ ভিডিও কলে আপনার পরিচয়, পাসপোর্ট এবং সম্মতি নিশ্চিত করবেন। এটি আন্তর্জাতিক অর্থপাচার রোধ নীতিমালার অংশ।
ধাপ ৪: বৈদেশিক মুদ্রা স্থানান্তর ও এফডিআর কার্যকর
অ্যাকাউন্ট নম্বর বরাদ্দের পর আপনার প্রবাসের স্থানীয় ব্যাংক হিসাব থেকে আন্তর্জাতিক সুইফট ট্রান্সফার (SWIFT Wire) বা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা স্থানান্তর করুন। ফান্ড জমা হওয়ার সাথে সাথে ব্যাংক আপনার নামে ডিজিটাল এফডিআর সার্টিফিকেট ইস্যু করবে।
মালয়েশিয়ার প্রবাসীরা রিংগিত প্রেরণের জন্য দেখতে পারেন মালয়েশিয়া রিংগিত টাকার রেট আজ। সিঙ্গাপুর ডলারের লাইভ রূপান্তর দেখতে ভিজিট করুন সিঙ্গাপুর ডলার টু টাকা লাইভ রেট।
৬. বাংলাদেশ ব্যাংক অফশোর ব্যাংকিং নীতিমালা: তহবিল ফেরত ও সুরক্ষা নিশ্চয়তা
বাংলাদেশ ব্যাংক অফশোর ব্যাংকিং নীতিমালা প্রবাসীদের বিনিয়োগ সুরক্ষায় অত্যন্ত সুদৃঢ় আইনি রক্ষাকবচ প্রদান করেছে। অনেকেই দ্বিধায় ভোগেন যে দেশে ডলারে টাকা পাঠালে পরবর্তীতে প্রয়োজনে তা আবার বিদেশে ফেরত নেওয়া যাবে কি না। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে:

প্রধান আইনি সুরক্ষাসমূহ
- অবাধ প্রত্যাবাসন (Free Repatriation): অফশোর ব্যাংকিং ফিক্সড ডিপোজিটের মূলধন এবং অর্জিত সম্পূর্ণ মুনাফা মেয়াদপূর্তিতে আমানতকারীর ইচ্ছানুযায়ী যেকোনো সময় আন্তর্জাতিক মুদ্রায় বিদেশে তাঁর হিসাবে স্থানান্তর করা যায়। এর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো পূর্বানুমোদন নিতে হয় না।
- ট্যাক্স ও লেভি অব্যাহতি: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)-এর বিধিবদ্ধ প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী অফশোর ব্যাংকিং ফিক্সড ডিপোজিটে অর্জিত সুদের ওপর কোনো উৎসে কর (AIT) বা আবগারি শুল্ক (Excise Duty) প্রযোজ্য হয় না।
- কারেন্সি ডিভ্যালুয়েশন শূন্য ঝুঁকি: যেহেতু আপনার অর্থ সরাসরি মার্কিন ডলারে বা নির্বাচিত বৈদেশিক মুদ্রায় রক্ষিত হয়, তাই বাংলাদেশি টাকার অবমূল্যায়নে আপনার বৈদেশিক মূলধনের কোনো ক্ষতি হয় না।
- স্থানীয় প্রতিনিধিদের জন্য সুবিধা: আমানতকারী চাইলে তাঁর অ্যাকাউন্টের বিপরীতে দেশে থাকা বৈধ নমিনি বা পরিবারের সদস্যকে স্থানীয় মুদ্রায় মুনাফা উত্তোলনের ক্ষমতা প্রদান করতে পারেন।
যুক্তরাজ্যের পাউন্ডের বর্তমান বাজারদর জানতে আমাদের ইউকে পাউন্ড টাকার রেট পেজ ফলো করুন। ইউরোপের দেশগুলোর জন্য দেখুন আজকের ইউরো টাকার রেট গাইড।
৭. অফশোর ফিক্সড ডিপোজিটে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্কতা ও পরামর্শ
অফশোর ব্যাংকিংয়ে বিনিয়োগ করার পূর্বে আমানতকারীদের কয়েকটি কৌশলগত বিষয় খেয়াল রাখা বাঞ্ছনীয়:
- ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা ও রেটিং যাচাই: অফশোর এফডিআর খোলার সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘এ’ ক্যাটাগরিভুক্ত এবং উচ্চ ক্যামেলস (CAMELS) রেটিংধারী প্রতিষ্ঠিত বাণিজ্যিক ব্যাংক নির্বাচন করুন।
- সুইফট কোড ও মধ্যস্থতাকারী ব্যাংক চার্জ: বিদেশ থেকে সুইফট ওয়্যার ট্রান্সফার করার সময় প্রেরক ব্যাংক ও করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকের চার্জ সম্পর্কে জেনে নিন, যাতে মূলধন স্থানান্তরে অপ্রয়োজনীয় ফি না কাটে।
- মেয়াদভিত্তিক চক্রবৃদ্ধি পরিকল্পনা: যদি নিকট ভবিষ্যতে তহবিলের প্রয়োজন না হয়, তবে ৬ মাস বা ১ বছর মেয়াদের রোলওভার (স্বয়ংক্রিয় নবায়ন) অপশন বেছে নিলে সর্বোচ্চ মুনাফার চক্রবৃদ্ধি সুবিধা ভোগ করা যায়।
দৈনিক মুদ্রা রূপান্তর ও সঞ্চয় পরিকল্পনার সঠিক হিসাব করতে সাহায্য নিন আমাদের লাইভ কারেন্সি ক্যালকুলেটর থেকে।
৮. অফশোর ব্যাংকিং ফিক্সড ডিপোজিট সম্পর্কিত সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. অফশোর ব্যাংকিং ফিক্সড ডিপোজিট খুলতে কি বাংলাদেশে সশরীরে উপস্থিত হতে হয়?
না, বাংলাদেশে সশরীরে আসার কোনো প্রয়োজন নেই। বিদেশে অবস্থানকালীন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ডিজিটাল পোর্টাল বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করে সম্পূর্ণ অনলাইনে অ্যাকাউন্ট খোলা যায়।
২. অফশোর ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে সর্বনিম্ন কত ডলার জমা রাখা যায়?
সাধারণত ব্যাংকভেদে সর্বনিম্ন জমার সীমা ৫০০ মার্কিন ডলার থেকে ১,০০০ মার্কিন ডলার (বা সমপরিমাণ অন্যান্য বৈদেশিক মুদ্রা) নির্ধারিত থাকে।
৩. অর্জিত সুদের ওপর কি বাংলাদেশে কোনো ট্যাক্স বা ভ্যাট দিতে হয়?
না, বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের আমানতের ওপর অর্জিত সুদে শতভাগ আয়কর ও ভ্যাট অব্যাহতি কার্যকর রয়েছে।
৪. মেয়াদের পূর্বে কি ফিক্সড ডিপোজিট ভাঙানো সম্ভব?
হ্যাঁ, জরুরি প্রয়োজনে মেয়াদের পূর্বেও ডিপোজিট এনক্যাশ করা যায়। তবে সেক্ষেত্রে ব্যাংক তাদের প্রিম্যাচিউর এনক্যাশমেন্ট নীতিমালা অনুযায়ী সুদের হারে কিছুটা সমন্বয় করতে পারে।
৫. আমি কি দেশে থাকা পরিবারের কাউকে নমিনি বা যৌথ হিসাবধারী করতে পারব?
হ্যাঁ, আপনি দেশে থাকা আপনার পিতা, মাতা, স্ত্রী বা সন্তানদের নমিনি করতে পারেন। এমনকি নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে পরিবারের কোনো সদস্যকে মনোনীত করে স্থানীয় খরচের ব্যবস্থা করতে পারেন।