আল আনসারি ও আল ফারদান এক্সচেঞ্জ দুবাই দেরহাম রেট ও টাকা পাঠানোর নিয়ম ২০২৬

দুবাইয়ের দুটি এক্সচেঞ্জ হাউস থেকে মোবাইল অ্যাপে বাংলাদেশে পরিবারের কাছে দেরহাম পাঠানোর থ্রিডি চিত্র
সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত বাংলাদেশিদের কাছে আল আনসারি ও আল ফারদান সবচেয়ে পরিচিত দুটি এক্সচেঞ্জ হাউস।
⚡ সংক্ষিপ্ত উত্তর: আজকের মিড-মার্কেট রেট অনুযায়ী প্রতি দেরহাম প্রায় ৩৩.৬৯ টাকা; আল আনসারি ও আল ফারদানের নিজস্ব রেট এর কাছাকাছি হলেও সময় ও পরিমাণভেদে আলাদা হতে পারে। দুই প্রতিষ্ঠানেই অ্যাপ বা শাখা থেকে এমিরেটস আইডি দিয়ে নিবন্ধন করে বাংলাদেশের ব্যাংক, বিকাশ বা ক্যাশ পিকআপে টাকা পাঠানো যায়। সাধারণ ফি প্রতি লেনদেনে প্রায় ১০ থেকে ২৬ দেরহাম, তার ওপর ৫% ভ্যাট। প্রাপক বাংলাদেশে আলাদাভাবে ২.৫% সরকারি প্রণোদনা পান।
⏱ সর্বশেষ রেট আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬ · রেট: আন্তর্জাতিক মিড-মার্কেট রেট (ExchangeRate-API), স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালনাগাদ হয়। আপনার ব্যাংক বা এক্সচেঞ্জ হাউসের রেট ভিন্ন হতে পারে।
লিখেছেন ও যাচাই করেছেন: এ কে আজাদ, প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক, Taka Rate Today। প্রবাসী আয়, বৈদেশিক মুদ্রার রেট এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা নিয়ে নিয়মিত তথ্য যাচাই করেন। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি ও তথ্যসূত্র দেখুন।

১. আল আনসারি ও আল ফারদান: কেন এই দুটি এক্সচেঞ্জ এত জনপ্রিয়

সংযুক্ত আরব আমিরাতে কয়েক লাখ বাংলাদেশি কাজ করেন, যাঁদের বড় অংশ দুবাই, আবুধাবি ও শারজায় থাকেন। তাঁদের মাসিক রেমিট্যান্সের বড় একটি অংশ যায় দুটি পুরনো ও পরিচিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে: আল আনসারি এক্সচেঞ্জ এবং আল ফারদান এক্সচেঞ্জ। দুটি প্রতিষ্ঠানই পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে আমিরাতে অর্থ স্থানান্তর সেবা দিচ্ছে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা সিবিইউএই (CBUAE)-এর লাইসেন্সের আওতায় পরিচালিত হয়। অর্থাৎ এখান থেকে পাঠানো টাকা বৈধ চ্যানেলে যায় এবং বাংলাদেশে প্রণোদনার জন্য যোগ্য হয়।

জনপ্রিয়তার আরেকটি কারণ হলো শাখার সংখ্যা। শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকা, শপিং মল এবং শিল্পাঞ্চলে দুই প্রতিষ্ঠানেরই অসংখ্য শাখা আছে। যাঁরা অ্যাপ ব্যবহারে অভ্যস্ত নন, তাঁরা শুক্রবার বা ছুটির দিনে শাখায় গিয়ে নগদ দেরহাম জমা দিয়ে টাকা পাঠান। আর যাঁরা স্মার্টফোন ব্যবহার করেন, তাঁরা আল আনসারি অ্যাপ বা আল ফারদানের আলফাপে (AlfaPay) অ্যাপ থেকে ঘরে বসেই পাঠাতে পারেন।

আমিরাত থেকে টাকা পাঠানোর সব মাধ্যম, ব্যাংক ও অ্যাপের সামগ্রিক চিত্র পেতে আমাদের সংযুক্ত আরব আমিরাত রেমিট্যান্স ও টাকার রেট হাব দেখুন। এই লেখায় আমরা শুধু এই দুটি এক্সচেঞ্জের রেট, ফি, নিয়ম এবং কোনটি কখন বেশি সুবিধাজনক তা বিশ্লেষণ করব।

২. আল আনসারি এক্সচেঞ্জ রেট টুডে বাংলাদেশ বনাম আল ফারদান দেরহাম রেট ২০২৬

দেরহামের রেট মূলত মার্কিন ডলারের সাথে যুক্ত, কারণ আমিরাতের মুদ্রা ডলারের সাথে নির্দিষ্ট হারে বাঁধা। তাই বাংলাদেশে ডলারের রেট যেভাবে ওঠানামা করে, দেরহামের রেটও প্রায় সেভাবেই বদলায়। দুই এক্সচেঞ্জ হাউসের রেটের পার্থক্য সাধারণত খুব কম, প্রতি দেরহামে কয়েক পয়সা মাত্র। তবে দিনের বিভিন্ন সময়ে কোনোটি একটু এগিয়ে থাকে, কোনোটি পিছিয়ে।

দুটি এক্সচেঞ্জ হাউসের কাউন্টার ও রেট বোর্ডের মাঝে তুলনামূলক দাঁড়িপাল্লার থ্রিডি ইনফোগ্রাফিক
দুই এক্সচেঞ্জের রেটের পার্থক্য সাধারণত কয়েক পয়সা; ফি ও অফারই অনেক সময় মূল পার্থক্য তৈরি করে।
বিষয় আল আনসারি এক্সচেঞ্জ আল ফারদান এক্সচেঞ্জ
আনুমানিক রেট (অক্টোবর ২০২৬) মিড-মার্কেট রেট প্রতি দেরহাম প্রায় ৩৩.৬৯ টাকা; অ্যাপে চূড়ান্ত রেট দেখুন মিড-মার্কেট রেট প্রতি দেরহাম প্রায় ৩৩.৬৯ টাকা; অ্যাপে চূড়ান্ত রেট দেখুন
মোবাইল অ্যাপ Al Ansari Exchange অ্যাপ AlfaPay অ্যাপ
সাধারণ ফি (ভ্যাট ছাড়া) ১,০০০ দেরহাম পর্যন্ত প্রায় ১৮.৫৭; এর বেশি হলে প্রায় ২৫.২৪ রুট ও সেবাভেদে প্রায় ১০ থেকে ২৫.২৪
বাংলাদেশে পৌঁছানোর মাধ্যম ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, মোবাইল ওয়ালেট, ক্যাশ পিকআপ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, মোবাইল ওয়ালেট, ক্যাশ পিকআপ
বিশেষ সুবিধা বড় শাখা নেটওয়ার্ক, পুরস্কার ক্যাম্পেইন অ্যাপে মাঝে মাঝে ফি-মুক্ত বা প্রোমো কোড অফার

উপরের তথ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকাশিত তথ্য ও সাম্প্রতিক বাজার পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে তৈরি; ফি ও অফার যে কোনো সময় বদলাতে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাত রেমিট্যান্স অফিশিয়াল রেট বলে আলাদা কোনো সরকারি নির্ধারিত রেট নেই; প্রতিটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান বাজার অনুযায়ী নিজস্ব রেট দেয়। এক দেরহামের আজকের মূল রেট জানতে আমাদের ১ দুবাই দিরহাম আজ বাংলাদেশের কত টাকা পাতাটি দেখুন।

💡 দেরহাম টু টাকা লাইভ এক্সচেঞ্জ রেট তুলনার নিয়ম: শুধু রেট দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না। দুই অ্যাপে একই পরিমাণ লিখে দেখুন “প্রাপক পাবেন” ঘরে কত টাকা দেখায় এবং আপনার মোট খরচ ফি ও ভ্যাটসহ কত দাঁড়ায়। যেটিতে প্রাপকের টাকা বেশি আর আপনার খরচ কম, সেটিই সেদিনের জন্য ভালো। গুগলের রেটের সাথে এক্সচেঞ্জের রেট কেন মেলে না, তা বুঝতে পড়ুন গুগল রেট বনাম ব্যাংক রেট।

৩. দুবাই থেকে বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর চার্জ: ফি ও ভ্যাটের হিসাব

দুবাই থেকে বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর চার্জ বুঝতে দুটি জিনিস জানতে হয়: সেবা ফি এবং তার ওপর আমিরাতের ৫% মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট। ভ্যাট পাঠানো পুরো টাকার ওপর নয়, শুধু ফির ওপর বসে। আল আনসারির ক্ষেত্রে পাঠানো টাকার পরিমাণ অনুযায়ী ফির দুটি ধাপ দেখা যায়, তাই ১,০০০ দেরহামের সীমার কাছাকাছি অংক পাঠানোর সময় একটু হিসাব করে নিলে লাভ হয়।

নির্দিষ্ট সীমার নিচে ও ওপরে রেমিট্যান্স ফির দুটি ধাপ এবং ফির ওপর ভ্যাট বোঝানো থ্রিডি চিত্র
ফির ধাপ: নির্দিষ্ট সীমা পার হলে ফি বাড়ে, আর ভ্যাট বসে শুধু ফির ওপর।
পাঠানো অংক (উদাহরণ) ফি (ভ্যাট ছাড়া) ৫% ভ্যাট মোট খরচ পাঠানো টাকার তুলনায়
৩০০ দেরহাম ১৮.৫৭ ০.৯৩ ১৯.৫০ দেরহাম প্রায় ৬.৫%
১,০০০ দেরহাম ১৮.৫৭ ০.৯৩ ১৯.৫০ দেরহাম প্রায় ১.৯৫%
১,০৫০ দেরহাম ২৫.২৪ ১.২৬ ২৬.৫০ দেরহাম প্রায় ২.৫২%
২,০০০ দেরহাম ২৫.২৪ ১.২৬ ২৬.৫০ দেরহাম প্রায় ১.৩৩%

এই টেবিল থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাওয়া যায়। ১,০৫০ দেরহাম পাঠালে খরচের হার ১,০০০ দেরহামের চেয়ে বেশি হয়ে যায়, কারণ ফি পরের ধাপে চলে যায়। তাই যদি আপনার ১,০৫০ দেরহাম পাঠানোর প্রয়োজন থাকে, সেটি ১,০০০ দেরহাম পাঠিয়ে বাকিটা পরের মাসে যোগ করা অথবা একবারে ২,০০০ দেরহামের কাছাকাছি পাঠানো বেশি সাশ্রয়ী হতে পারে। মনে রাখবেন, এটি আল আনসারির সাম্প্রতিক ফি কাঠামোর উদাহরণ; আল ফারদান অ্যাপে প্রোমো চলাকালে ফি অনেক কম বা শূন্যও হতে পারে। প্রতিবার চূড়ান্ত ফি অ্যাপের সারাংশ পাতায় দেখে নিন।

ব্যাংক ওয়্যার নাকি এক্সচেঞ্জ হাউস, কোনটিতে সামগ্রিক খরচ কম পড়ে তা বিস্তারিত জানতে পড়ুন আমাদের ব্যাংক ওয়্যার বনাম এক্সচেঞ্জ হাউস তুলনা।

৪. অ্যাপে নিবন্ধন ও টাকা পাঠানোর ধাপসমূহ

দুই প্রতিষ্ঠানের অ্যাপের নকশা আলাদা হলেও মূল প্রক্রিয়া প্রায় একই। প্রথমবার নিবন্ধনে কিছুটা সময় লাগে, এরপর প্রতিবার এক থেকে দুই মিনিটেই টাকা পাঠানো যায়।

এমিরেটস আইডি স্ক্যান, সেলফি যাচাই, প্রাপক যোগ, কার্ডে পেমেন্ট ও রসিদ পাওয়ার পাঁচ ধাপের থ্রিডি ইনফোগ্রাফিক
পাঁচ ধাপ: আইডি স্ক্যান, সেলফি যাচাই, প্রাপক যোগ, পেমেন্ট এবং রসিদ সংরক্ষণ।
  1. অ্যাপ ইনস্টল: প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে অফিশিয়াল Al Ansari Exchange অ্যাপ অথবা AlfaPay অ্যাপ নামান। নকল অ্যাপ এড়াতে প্রকাশকের নাম মিলিয়ে নিন।
  2. পরিচয় যাচাই: এমিরেটস আইডির দুই পাশ স্ক্যান করুন অথবা ইউএই পাস (UAE Pass) দিয়ে লগইন করুন, তারপর সেলফি তুলে মুখ যাচাই করুন।
  3. প্রাপক যোগ: দেশ Bangladesh নির্বাচন করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, মোবাইল ওয়ালেট বা ক্যাশ পিকআপ বেছে নিন। প্রাপকের নাম জাতীয় পরিচয়পত্রের বানানের সাথে মিলিয়ে লিখুন।
  4. পরিমাণ ও পেমেন্ট: দেরহামের পরিমাণ লিখে রেট ও ফি দেখুন। ডেবিট কার্ড, অনলাইন ব্যাংকিং অথবা অ্যাপে বুক করে শাখায় নগদ জমা দিয়ে পেমেন্ট করা যায়।
  5. রসিদ সংরক্ষণ: লেনদেন শেষে রেফারেন্স নম্বরসহ রসিদের স্ক্রিনশট রাখুন এবং প্রাপককে পাঠান।

শাখা থেকে পাঠাতে চাইলে এমিরেটস আইডি সাথে নিয়ে যান। প্রথমবার শাখায় একটি ফর্ম পূরণ করতে হয়, পরের বার শুধু আইডি দেখালেই সংরক্ষিত প্রাপকের কাছে পাঠানো যায়।

একটি বাস্তব পরামর্শ: মাসের শেষ সপ্তাহ ও বেতনের পরের শুক্রবারে শাখাগুলোতে দীর্ঘ লাইন থাকে, কখনো এক ঘণ্টারও বেশি অপেক্ষা করতে হয়। এ সময় অ্যাপে আগে থেকে লেনদেন বুক করে রাখলে শাখায় গিয়ে শুধু নগদ জমা দিলেই কাজ শেষ হয়। আবার যাঁরা নিয়মিত পাঠান, তাঁরা অ্যাপের রেট অ্যালার্ট চালু রাখলে পছন্দের রেটে পৌঁছালেই নোটিফিকেশন পান এবং সময়মতো পাঠাতে পারেন।

৫. দুবাই থেকে বিকাশে টাকা পাঠানোর নিয়ম ও অন্যান্য মাধ্যম

দুবাই থেকে বিকাশে টাকা পাঠানোর নিয়ম খুবই সহজ। অ্যাপে প্রাপক যোগ করার সময় Mobile Wallet নির্বাচন করে বিকাশ বেছে নিন এবং প্রাপকের নামে নিবন্ধিত বিকাশ নম্বর দিন। টাকা সাধারণত কয়েক মিনিটের মধ্যে ওয়ালেটে জমা হয় এবং প্রণোদনাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হয়। তবে মনে রাখবেন, প্রাপকের ওয়ালেট অবশ্যই তাঁর নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে নিবন্ধিত হতে হবে, অন্যের নামে খোলা ওয়ালেটে টাকা আটকে যেতে পারে।

দুবাই থেকে বাংলাদেশের ব্যাংক, মোবাইল ওয়ালেট ও ক্যাশ পিকআপে টাকা পৌঁছানোর তিনটি পথের থ্রিডি মানচিত্র
দুবাই থেকে বাংলাদেশে তিন পথে টাকা যায়: ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, মোবাইল ওয়ালেট এবং ক্যাশ পিকআপ।
মাধ্যম সাধারণ সময় খেয়াল রাখার বিষয়
বিকাশ বা অন্য মোবাইল ওয়ালেট সাধারণত কয়েক মিনিট ওয়ালেটের দৈনিক ও মাসিক গ্রহণসীমা
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট কয়েক মিনিট থেকে এক কর্মদিবস শুক্র ও শনিবার বাংলাদেশে ব্যাংক বন্ধ
ক্যাশ পিকআপ একই দিন, শাখার সময় অনুযায়ী প্রাপকের জাতীয় পরিচয়পত্র ও রেফারেন্স নম্বর

মোবাইল ওয়ালেটে রেমিট্যান্স গ্রহণের সীমা, ক্যাশ আউট খরচ এবং প্রণোদনা জমার সময় নিয়ে বিস্তারিত পাবেন আমাদের মোবাইল ওয়ালেট রেমিট্যান্স গাইডে। বড় অংকের জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্টই ভালো; কোন ব্যাংকে কী সুবিধা পাওয়া যায় তা জানতে দেখুন আমাদের ব্যাংক রেমিট্যান্স গাইড।

৬. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, প্রণোদনা ও সতর্কতা

প্রেরকের যা লাগবে

  • মেয়াদ আছে এমন এমিরেটস আইডি। মেয়াদ শেষ হলে অ্যাপ ও শাখা দুই জায়গাতেই লেনদেন বন্ধ হতে পারে।
  • নিবন্ধিত সচল মোবাইল নম্বর, যেখানে ওটিপি আসবে।
  • বড় বা ঘন ঘন লেনদেনের ক্ষেত্রে এক্সচেঞ্জ হাউস বেতনের সনদ বা আয়ের উৎসের প্রমাণ চাইতে পারে। এটি আমিরাতের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ নিয়মের অংশ।

প্রাপক ও প্রণোদনা

প্রাপকের জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম এবং অ্যাকাউন্ট বা ওয়ালেটের নাম এক হতে হবে। বৈধ চ্যানেলে টাকা এলে প্রাপকের ব্যাংক বা ওয়ালেট ২.৫% প্রণোদনা নিজে থেকেই যোগ করে, আলাদা আবেদন লাগে না। উদাহরণ হিসেবে প্রতি দেরহাম ৩৩.৬৯ টাকা ধরলে ১,০০০ দেরহামে মূল টাকা ৩৩,৬৮৭, প্রণোদনা ৮৪২.১৭ এবং মোট ৩৪,৫২৮.৮৭ টাকা দাঁড়ায়। অন্যান্য অংকের হিসাব করতে আমাদের রেমিট্যান্স ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন, আর প্রণোদনার পূর্ণ নিয়ম জানতে পড়ুন রেমিট্যান্স প্রণোদনা গাইড।

⚠️ সতর্কতা: দুবাইয়ের লেবার ক্যাম্প বা দোকানে অনেকে “বেশি রেট” দেওয়ার কথা বলে অনানুষ্ঠানিক পথে টাকা নেয়। এটি আমিরাত ও বাংলাদেশ দুই দেশের আইনেই অপরাধ; এতে প্রণোদনা মেলে না এবং প্রাপকের অ্যাকাউন্ট জব্দ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ ছাড়া এক্সচেঞ্জ হাউসের নাম ব্যবহার করে ভুয়া ফোনকল বা এসএমএসে ওটিপি চাওয়া হলে কখনোই দেবেন না। পাঠানোর আগে মিলিয়ে নিন আমাদের নিরাপদ রেমিট্যান্স চেকলিস্ট।
📱 আজকের টাকার রেট অ্যাপ
দেরহামসহ বিভিন্ন মুদ্রার রেমিট্যান্স রেট দেখতে এবং প্রণোদনাসহ প্রাপক কত টাকা পাবেন তা হিসাব করতে আমাদের ফ্রি অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারেন।

গুগল প্লে থেকে ডাউনলোড

৭. বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

আল আনসারি নাকি আল ফারদান, কোনটির রেট বেশি?

দুই প্রতিষ্ঠানের রেটের পার্থক্য সাধারণত প্রতি দেরহামে কয়েক পয়সা এবং দিনের সময়ভেদে বদলায়। তাই পাঠানোর আগে দুই অ্যাপে একই পরিমাণ লিখে “প্রাপক পাবেন” অংক তুলনা করাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।

দুবাই থেকে বাংলাদেশে টাকা পাঠাতে কত ফি লাগে?

সাধারণত প্রতি লেনদেনে প্রায় ১০ থেকে ২৫.২৪ দেরহাম ফি, সাথে ফির ওপর ৫% ভ্যাট। আল আনসারিতে ১,০০০ দেরহাম পর্যন্ত এক ধরনের ফি এবং তার বেশি হলে আরেক ধরনের ফি দেখা যায়।

দুবাই থেকে বিকাশে টাকা পাঠাতে কত সময় লাগে?

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিকাশ ওয়ালেটে টাকা জমা হয়। যাচাই প্রক্রিয়া বা নেটওয়ার্কের কারণে কখনো কখনো কয়েক ঘণ্টা লাগতে পারে।

এমিরেটস আইডির মেয়াদ শেষ হলে কি টাকা পাঠানো যায়?

সাধারণত না। মেয়াদোত্তীর্ণ আইডি দিয়ে অ্যাপ বা শাখায় আন্তর্জাতিক লেনদেন বন্ধ থাকে। আইডি নবায়নের পর অ্যাপে নতুন আইডি আপলোড করলে সেবা আবার চালু হয়।

শাখায় নগদ দিয়ে পাঠালে কি প্রণোদনা পাওয়া যায়?

হ্যাঁ। লাইসেন্সপ্রাপ্ত এক্সচেঞ্জ হাউসের শাখা থেকে নগদ জমা দিয়ে পাঠানো টাকাও বৈধ রেমিট্যান্স, তাই প্রাপক বাংলাদেশে ২.৫% প্রণোদনা পান।

সংযুক্ত আরব আমিরাত রেমিট্যান্সের কোনো সরকারি নির্ধারিত রেট আছে কি?

না। দেরহাম ডলারের সাথে নির্দিষ্ট হারে বাঁধা থাকলেও প্রতিটি এক্সচেঞ্জ হাউস ও ব্যাংক বাজার অনুযায়ী নিজের রেমিট্যান্স রেট নির্ধারণ করে।

ℹ️ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও দায়মুক্তি: এই লেখার রেট, ফি, সীমা ও সময় শুধু ধারণা দেওয়ার জন্য এবং প্রকাশের তারিখের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে লেখা। মুদ্রার রেট প্রতিনিয়ত বদলায় এবং প্রতিষ্ঠানগুলো যে কোনো সময় নিয়ম পরিবর্তন করতে পারে। Taka Rate Today কোনো ব্যাংক, এক্সচেঞ্জ হাউস বা আর্থিক উপদেষ্টা নয় এবং কোনো লেনদেন পরিচালনা করে না। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আল আনসারি বা আল ফারদান এক্সচেঞ্জের অফিশিয়াল অ্যাপ বা শাখা থেকে চূড়ান্ত তথ্য নিশ্চিত হয়ে নিন। বিস্তারিত জানতে আমাদের দায়মুক্তি নীতি দেখুন।

শেষ কথা: রেট নয়, প্রাপকের হাতে পৌঁছানো মোট টাকা এবং আপনার মোট খরচ মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিন। ১,০০০ দেরহামের ফির সীমার কথা মাথায় রাখুন, অফার থাকলে কাজে লাগান এবং সব সময় লাইসেন্সপ্রাপ্ত এক্সচেঞ্জ হাউসের মাধ্যমে পাঠান।