১০, ৫০ ও ১০০ ওমানি রিয়াল বাংলাদেশের কত টাকা আজ ২০২৬: সম্পূর্ণ হিসাব ও বোনাস

১০, ৫০ ও ১০০ ওমানি রিয়াল ব্যাংকনোট ও বাংলাদেশি টাকার বান্ডিলের থ্রিডি আর্থিক চার্ট
ওমানি রিয়াল ও বাইসার রূপান্তর এবং ২.৫ শতাংশ সরকারি প্রণোদনার বাস্তব হিসাব।
⚡ সংক্ষিপ্ত উত্তর: অক্টোবর ২০২৬-এর আনুমানিক বাজারদর অনুযায়ী প্রতি ওমানি রিয়াল প্রায় ৩২১.৭৬ টাকা (আজকের মিড-মার্কেট রেট; প্রদানকারীভেদে ভিন্ন হতে পারে)। এই হিসেবে ১০ ওমান রিয়াল বাংলাদেশের প্রায় ৩,২১৮ টাকা (২.৫% প্রণোদনাসহ প্রায় ৩,২৯৮ টাকা); ৫০ ওমানি রিয়াল বাংলাদেশের প্রায় ১৬,০৮৮ টাকা (প্রণোদনাসহ প্রায় ১৬,৪৯০ টাকা); এবং ১০০ ওমান রিয়াল বাংলাদেশের প্রায় ৩২,১৭৬ টাকা (প্রণোদনাসহ প্রায় ৩২,৯৮০ টাকা)। বৈধ ব্যাংক বা এক্সচেঞ্জ হাউসের মাধ্যমে পাঠালে কোনো ফি ছাড়াই সরকারের ২.৫% নগদ প্রণোদনা প্রাপকের হিসেবে সরাসরি জমা হয়।
⏱ সর্বশেষ রেট আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬ · রেট: আন্তর্জাতিক মিড-মার্কেট রেট (ExchangeRate-API), স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালনাগাদ হয়। আপনার ব্যাংক বা এক্সচেঞ্জ হাউসের রেট ভিন্ন হতে পারে।
লিখেছেন ও যাচাই করেছেন: এ কে আজাদ, প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক, Taka Rate Today। প্রবাসী আয়, বৈদেশিক মুদ্রার রেট এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা নিয়ে নিয়মিত তথ্য যাচাই করেন। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি ও তথ্যসূত্র দেখুন।

১. ওমানি রিয়াল ও বাইসার হিসাব: প্রবাসীদের যা জানা জরুরি

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শক্তিশালী মুদ্রা হলো ওমানি রিয়াল (OMR)। ওমানের মুদ্রাব্যবস্থার একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো, এটি অন্যান্য উপসাগরীয় দেশের মতো ১০০ পয়সায় বিভক্ত নয়, বরং ১ ওমানি রিয়াল সমান ১,০০০ বাইসায় (Baisa) বিভক্ত। অর্থাৎ ওমানের মুদ্রায় দশমিকের পর সর্বদা তিন ঘর পর্যন্ত হিসাব করা হয়। যেমন ১.৫০০ রিয়াল মানে এক রিয়াল পাঁচশত বাইসা, অথবা ০.২৫০ রিয়াল মানে আড়াইশত বাইসা যা মূলত সিকি রিয়াল বা কোয়ার্টার রিয়াল হিসেবে পরিচিত।

ওমানে প্রচলিত সাধারণ ব্যাংকনোটের মধ্যে রয়েছে ১০০ বাইসা, ১/২ রিয়াল (৫০০ বাইসা), ১ রিয়াল, ৫ রিয়াল, ১০ রিয়াল, ২০ রিয়াল এবং ৫০ রিয়াল। সাধারণ প্রবাসীরা দৈনন্দিন কেনাকাটায় ছোট নোট ব্যবহার করলেও দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর সময় সাধারণত ১০, ৫০, ১০০ বা তার বেশি অংকের রিয়াল একত্র করে পাঠান। ওমান থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর সাধারণ নিয়ম ও আজকের সব তথ্য পেতে দেখুন আমাদের ওমান রেমিট্যান্স ও টাকার রেট হাব।

ওমানি রিয়ালের বিভিন্ন ব্যাংকনোট ও বাইসা মুদ্রার স্কেলের ওপর থ্রিডি উপস্থাপনা
ওমানে ১ রিয়াল সমান ১,০০০ বাইসা; অ্যাপে বা এক্সচেঞ্জে দশমিকের তিন ঘর খেয়াল রাখা জরুরি।

অনেকেই হিসাব করার সময় দশমিকের স্থানে ভুল করে বসেন। যেমন কেউ যদি ব্যাংকিং অ্যাপে ১০.০৫০ রিয়াল লেখেন, তবে তা হবে ১০ রিয়াল ৫০ বাইসা, আর ১০.৫০০ রিয়াল লিখলে তা হবে ১০ রিয়াল ৫০০ বাইসা। প্রতি রিয়ালের মান ৩২১.৭৬ টাকা ধরলে এই সামান্য ভুলে প্রায় ১,৪৪৮ টাকার তারতম্য ঘটে যেতে পারে। আজকের মূল ১ রিয়ালের সরাসরি দর দেখতে পারেন আমাদের ১ ওমানি রিয়াল আজ বাংলাদেশের কত টাকা নির্দেশিকায়।

২. ১০, ৫০ ও ১০০ ওমানি রিয়াল টু টাকা লাইভ রূপান্তর তালিকা

ওমানি রিয়াল মার্কিন ডলারের সঙ্গে স্থায়ীভাবে পেগ করা (১ ডলার = ০.৩৮৪৫ ওমানি রিয়াল)। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের ওঠানামার সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশে ওমানি রিয়ালের বিপরীতে টাকার মান নির্ধারিত হয়। নিচে অক্টোবর ২০২৬-এর গড় রেট ৩২১.৭৬ টাকার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন জনপ্রিয় অংকের রূপান্তর তালিকা দেখানো হলো:

ওমানি রিয়াল (OMR) মূল টাকার রূপান্তর (৩২১.৭৬ রেটে) ২.৫% সরকারি প্রণোদনা প্রাপকের মোট প্রাপ্তি (টাকা)
১০ রিয়াল ৩,২১৭.৫৬ টাকা ৮০.৪৪ টাকা ৩,২৯৮.০০ টাকা
২৫ রিয়াল ৮,০৪৩.৯০ টাকা ২০১.১০ টাকা ৮,২৪৫.০০ টাকা
৫০ রিয়াল ১৬,০৮৭.৮১ টাকা ৪০২.২০ টাকা ১৬,৪৯০.০০ টাকা
১০০ রিয়াল ৩২,১৭৫.৬১ টাকা ৮০৪.৩৯ টাকা ৩২,৯৮০.০০ টাকা
১৫০ রিয়াল ৪৮,২৬৩.৪২ টাকা ১,২০৬.৫৯ টাকা ৪৯,৪৭০.০০ টাকা
২০০ রিয়াল ৬৪,৩৫১.২২ টাকা ১,৬০৮.৭৮ টাকা ৬৫,৯৬০.০০ টাকা
৫০০ রিয়াল ১৬০,৮৭৮.০৫ টাকা ৪,০২১.৯৫ টাকা ১৬৪,৯০০.০০ টাকা
১,০০০ রিয়াল ৩২১,৭৫৬.১০ টাকা ৮,০৪৩.৯০ টাকা ৩২৯,৮০০.০০ টাকা

উপরে উল্লেখিত হিসাবটি তাত্ত্বিক গড় রেটের ওপর ভিত্তি করে সাজানো। ব্যাংক বা এক্সচেঞ্জ হাউসভেদে রেট সামান্য কম-বেশি হতে পারে। যেকোনো নির্দিষ্ট অংকের সঠিক হিসাব তাৎক্ষণিকভাবে বের করতে আমাদের রেমিট্যান্স ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারেন।

১০ ৫০ ও ১০০ রিয়াল ধাপে ধাপে বাংলাদেশি টাকায় রূপান্তরের থ্রিডি সিঁড়ি চিত্র
পরিমাণ বৃদ্ধির সাথে সাথে মূল টাকা ও ২.৫% সরকারি প্রণোদনার অংক সমানুপাতিক হারে বৃদ্ধি পায়।

৩. ওমান রেমিট্যান্স ২.৫% সরকারি প্রণোদনা হিসাবের নিয়ম

বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যমান রেমিট্যান্স নীতি অনুযায়ী, যেকোনো প্রবাসী বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে বা লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠালে মূল টাকার সঙ্গে অতিরিক্ত ২.৫ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়া হয়। এই সুবিধার অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এর জন্য প্রাপক বা প্রেরক কাউকে আলাদা কোনো আবেদন ফরম পূরণ করতে হয় না বা অতিরিক্ত কাগজপত্র জমা দিতে হয় না।

প্রণোদনা হিসাবের মূল সূত্র অত্যন্ত সহজ:

মোট প্রাপ্ত টাকা = (রিয়ালের পরিমাণ × বর্তমান রেট) + (মূল টাকা × ০.০২৫)

উদাহরণস্বরূপ, ১০০ ওমানি রিয়াল পাঠানোর ক্ষেত্রে:

  • মূল টাকার পরিমাণ: ১০০ × ৩২১.৭৬ = ৩২,১৭৬ টাকা।
  • প্রণোদনার পরিমাণ: ৩২,১৭৬ × ২.৫% = ৮০৪.৩৯ টাকা।
  • প্রাপকের ব্যাংক বা মোবাইল ওয়ালেটে জমা হবে: ৩১,৯৫০ + ৮০৪.৩৯ = ৩২,৯৮০.০০ টাকা।

প্রণোদনার ক্ষেত্রে কোনো সর্বোচ্চ ঊর্ধ্বসীমা নেই, তবে একক লেনদেনে বড় অংক পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ নিয়ম অনুযায়ী প্রেরকের পাসপোর্ট বা রেসিডেন্ট কার্ডের কপি এবং আয়ের বৈধ তথ্যাদি ব্যাংকিং নথিতে থাকা আবশ্যক। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পড়তে পারেন আমাদের রেমিট্যান্স প্রণোদনা নীতিমালা গাইড।

৪. ছোট অংক (১০ রিয়াল) বনাম বড় অংক (১০০ রিয়াল): ফি এর প্রভাব

ওমান থেকে বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রবাসীদের সবচেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতি হয় যখন তাঁরা খুব অল্প অংকের টাকা বারবার পাঠান। ওমানের বেশিরভাগ ব্যাংক ও এক্সচেঞ্জ হাউস (যেমন ব্যাংক মাসকাট, লুলু এক্সচেঞ্জ, গালফ এক্সচেঞ্জ ইত্যাদি) প্রতি লেনদেনে একটি নির্দিষ্ট ফ্ল্যাট সার্ভিস ফি চার্জ করে, যা সাধারণত প্রায় ১.৫০০ রিয়াল এবং এর সাথে ৫% স্থানীয় ভ্যাট (০.০৭৫ রিয়াল) যুক্ত হয়ে সর্বমোট প্রায় ১.৫৭৫ রিয়াল দাঁড়ায়।

ছোট লেনদেনে ফি এর শতকরা প্রভাব এবং বড় লেনদেনে খরচের ক্ষুদ্র অনুপাতের থ্রিডি তুলনা
১০ রিয়ালে ফি প্রায় ১৫.৭৫ শতাংশ গায়েব করে ফেলে; ১০০ রিয়ালে খরচ নেমে আসে মাত্র ১.৫৮ শতাংশে।

এই ১.৫৭৫ রিয়াল ফি টাকার অঙ্কে প্রায় ৫০৭ টাকার সমান। নিচে লক্ষ্য করুন বিভিন্ন পরিমাণের ওপর এই ফির প্রকৃত প্রভাব:

  • ১০ রিয়াল পাঠালে: ফি ১.৫৭৫ রিয়াল, অর্থাৎ পাঠানো মূলধনের প্রায় ১৫.৭৫ শতাংশই খরচে চলে যায়। ফলে পরিবার পায় ৩,২৯৮ টাকা, কিন্তু আপনার পকেট থেকে খরচ হয় প্রায় ৩,৭২৪ টাকার বেশি।
  • ৫০ রিয়াল পাঠালে: ফি ১.৫৭৫ রিয়াল, যা মোট পরিমাণের প্রায় ৩.১৫ শতাংশ। এখানে সরকারি প্রণোদনা ২.৫% বাদ দিলে খরচ নেমে আসে মাত্র ০.৬৫ শতাংশে।
  • ১০০ রিয়াল পাঠালে: ফি ১.৫৭৫ রিয়াল, যা মোট পরিমাণের মাত্র ১.৫৮ শতাংশ। এখানে প্রণোদনা পাওয়ার পর উল্টো প্রবাসী পরিবার প্রায় ৩% বেশি টাকা ঘরে নিতে পারেন।
  • ২০০ রিয়াল পাঠালে: ফির প্রভাব ০.৭৯ শতাংশে নেমে আসে, যা অত্যন্ত লাভজনক।

অতএব বুদ্ধিমানের কাজ হলো, প্রতি সপ্তাহে বা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ১০-২০ রিয়ালের মতো ছোট অংক বারবার না পাঠিয়ে মাস শেষে ১০০ বা ২০০ রিয়াল একত্রে পাঠানো। ব্যাংক এবং এক্সচেঞ্জ হাউসের ফি ও সেবার পার্থক্য বুঝতে দেখুন আমাদের ব্যাংক ওয়্যার বনাম এক্সচেঞ্জ হাউস বিশ্লেষণ।

৫. ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বনাম বিকাশ: ওমান থেকে টাকা পাঠানোর সেরা মাধ্যম

ওমানে বসবাসরত প্রবাসীদের অনেকেই দেশের বাড়িতে তাৎক্ষণিক টাকা পাঠাতে মোবাইল আর্থিক সেবা (বিকাশ) পছন্দ করেন, আবার অনেকে জমানো টাকা সঞ্চয়ের জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন। দুটি মাধ্যমেরই নিজস্ব সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

তুলনার বিষয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট (সরাসরি ডিপোজিট) বিকাশ / মোবাইল ওয়ালেট
লেনদেন সীমা সাধারণত কোনো কঠোর সীমা নেই; বড় অংক পাঠানো যায় প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকা এবং মাসিক সীমা প্রযোজ্য
পৌঁছানোর সময় কর্মদিবসে সাধারণত কয়েক ঘণ্টা থেকে ২৪ ঘণ্টা তাৎক্ষণিক (সাধারণত ৫ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে)
ক্যাশ আউট খরচ চেক বা এটিএম কার্ড ব্যবহারে বিনামূল্যে উত্তোলন সম্ভব এজেন্ট থেকে তুলতে প্রতি হাজারে ১৩.৯৫ থেকে ১৮.৫০ টাকা চার্জ
প্রণোদনা প্রদান মূল অ্যাকাউন্টে সরাসরি স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমা হয় বিকাশ অ্যাকাউন্টে মূল টাকার সাথে সরাসরি জমা হয়
উপযুক্ততা পরিবারের বড় খরচ, জমি কেনা, ডিপিএস বা সঞ্চয় জরুরি চিকিৎসা, বাজারের খরচ ও পরিবারের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেমিট্যান্স গ্রহণকারী ব্যাংকগুলোর একটি হলো ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকে পাঠানোর পদ্ধতি জানতে আমাদের ইসলামী ব্যাংকে রেমিট্যান্স পাঠানোর নিয়ম দেখতে পারেন। আর ওয়ালেটের সীমা ও ক্যাশ আউট খরচ সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা পেতে পড়ুন আমাদের মোবাইল ওয়ালেট রেমিট্যান্স নির্দেশিকা।

৬. মাসিক রেমিট্যান্স পরিকল্পনা ও হুন্ডি পরিহারের সতর্কতা

মাসকাট, সালালাহ, সোহার বা নিজওয়ার মতো ওমানের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে বহু প্রবাসী পরিশ্রমে উপার্জিত অর্থ দেশে পাঠান। একটি সুশৃঙ্খল আর্থিক পরিকল্পনা মেনে চললে পরিবারের সমৃদ্ধি দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

মাসিক আর্থিক পরিকল্পনা ডায়েরি ক্যালেন্ডার ও স্মার্টফোনের মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রেরণের থ্রিডি চিত্র
পরিকল্পিত মাসিক রেমিট্যান্স পাঠানো এবং বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের ব্যবহারই প্রবাসী উপার্জনের শ্রেষ্ঠ নিরাপত্তা।

ওমান প্রবাসীদের জন্য সঞ্চয় ও পাঠানোর টিপস

  1. বেতনের দিনেই বাজেট ভাগ করুন: বেতন পাওয়ার পর নিজের থাকা-খাওয়ার খরচ আলাদা রেখে বাকি টাকা একবারে পাঠানোর পরিকল্পনা করুন।
  2. ছুটির দিন খেয়াল রাখুন: ওমানে সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র ও শনিবার, আবার বাংলাদেশেও শুক্র ও শনিবার ব্যাংক লেনদেন বন্ধ থাকে। ফলে বৃহস্পতিবার বিকেলে টাকা পাঠালে তা ব্যাংক হিসেবে জমা হতে রোববার সকাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে বিকাশে পাঠালে ছুটির দিনেও তাৎক্ষণিক জমা হয়।
  3. খোলা বাজারের প্রলোভন এড়িয়ে চলুন: অনেক সময় অননুমোদিত ব্যক্তিরা প্রতি রিয়ালে ২-৩ টাকা বেশি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে থাকে। খোলা বাজার ও ব্যাংকের দরের ফারাক বুঝতে পড়ুন খোলা বাজার বনাম ব্যাংক রেট তুলনা।
  4. লাইভ রেট যাচাই করুন: পাঠানোর পূর্বে এক্সচেঞ্জ হাউসের অ্যাপে বা অফিশিয়াল ডিসপ্লে বোর্ডে রেট দেখে নিন। সঠিক রেট যাচাইয়ের কৌশল জানতে দেখুন আমাদের লাইভ রেট চেক করার নিয়ম।
⚠️ হুন্ডি একটি মারাত্মক দণ্ডনীয় অপরাধ: ওমান থেকে অনানুষ্ঠানিক পথে বা হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানো ওমান ও বাংলাদেশ উভয় দেশের প্রচলিত আইনে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠালে কোনো সরকারি ২.৫% প্রণোদনা পাওয়া যায় না, টাকা হারানোর ঝুঁকি থাকে এবং প্রাপকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট স্থগিত হতে পারে। রেমিট্যান্স পাঠানোর আগে আমাদের নিরাপদ রেমিট্যান্স চেকলিস্ট অবশ্যই মিলিয়ে নিন।
📱 আজকের টাকার রেট অ্যাপ
ওমানি রিয়ালসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের মুদ্রার আজকের আনুমানিক রেট দেখতে এবং প্রণোদনাসহ মোট টাকা কত দাঁড়ায় তা বের করতে আমাদের ফ্রি ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন।

গুগল প্লে থেকে ডাউনলোড

৭. বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১০০ ওমান রিয়াল আজ বাংলাদেশের কত টাকা?

অক্টোবর ২০২৬-এর গড় বিনিময় হার (প্রতি রিয়াল ৩২১.৭৬ টাকা) অনুযায়ী ১০০ ওমানি রিয়াল বাংলাদেশের প্রায় ৩২,১৭৬ টাকা। সরকারের ২.৫% নগদ প্রণোদনা যোগ হলে প্রাপক সর্বমোট প্রায় ৩২,৯৮০.০০ টাকা পাবেন।

১০ ওমানি রিয়াল পাঠালে কি সরকারি প্রণোদনা পাওয়া যাবে?

হ্যাঁ, বৈধ চ্যানেলে যেকোনো অংক পাঠালেই ২.৫% প্রণোদনা পাওয়া যায়। ১০ রিয়ালে (৩,২১৮ টাকা) প্রায় ৮০.৪৪ টাকা প্রণোদনা পাওয়া যাবে। তবে ফ্ল্যাট ফি বেশি হওয়ায় ১০ রিয়াল আলাদা না পাঠিয়ে বড় অংক একত্রে পাঠানো বেশি সাশ্রয়ী।

ওমানে ১ রিয়ালে কত বাইসা হয়?

ওমানের মুদ্রায় ১ রিয়াল সমান ১,০০০ বাইসা। মুদ্রার আন্তর্জাতিক হিসাব ও এক্সচেঞ্জ স্লিপে সর্বদা তিন দশমিক ঘর (যেমন ১.০০০ বা ০.৫০০) ব্যবহার করা হয়।

ওমান থেকে বিকাশে টাকা পাঠাতে কত সময় লাগে?

ওমানের অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জ বা ডিজিটাল ওয়ালেট অ্যাপ থেকে বিকাশে রেমিট্যান্স পাঠালে অধিকাংশ ক্ষেত্রে কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা বাংলাদেশে প্রাপকের বিকাশ অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যায়।

ওমান রেমিট্যান্সের ওপর কি ওমানে কোনো ট্যাক্স কাটা হয়?

না, প্রেরিত মূল রেমিট্যান্সের ওপর ওমানে কোনো ব্যক্তিগত আয়কর বা প্রস্থান কর নেই। তবে এক্সচেঞ্জ হাউস যে সেবা ফি (প্রায় ১.৫০০ রিয়াল) চার্জ করে, তার ওপর ওমানের স্থানীয় ৫% ভ্যাট প্রযোজ্য হয়।

ব্যাংকের রেট আর গুগলের রেটের মধ্যে পার্থক্য থাকে কেন?

গুগলে প্রদর্শিত রেট হলো আন্তর্জাতিক ইন্টারব্যাংক মিড-মার্কেট রেট, যা পাইকারি লেনদেনের জন্য প্রযোজ্য। খুচরা গ্রাহক ও রেমিট্যান্স লেনদেনের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোর নিজস্ব ট্রেজারি রেট কার্যকর হয়।

ℹ️ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও দায়মুক্তি: এই লেখার রেট, ফি, সীমা ও সময় শুধু ধারণা দেওয়ার জন্য এবং প্রকাশের তারিখের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে লেখা। মুদ্রার রেট প্রতিনিয়ত বদলায় এবং প্রতিষ্ঠানগুলো যে কোনো সময় নিয়ম পরিবর্তন করতে পারে। Taka Rate Today কোনো ব্যাংক, এক্সচেঞ্জ হাউস বা আর্থিক উপদেষ্টা নয় এবং কোনো লেনদেন পরিচালনা করে না। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ওমানের ব্যাংক বা লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি এক্সচেঞ্জ থেকে চূড়ান্ত তথ্য নিশ্চিত হয়ে নিন। বিস্তারিত জানতে আমাদের দায়মুক্তি নীতি দেখুন।

পরিশেষে, ওমানে কষ্টার্জিত অর্থ নিরাপদে দেশে পাঠাতে সর্বদা বাংলাদেশ ব্যাংক ও ওমান সেন্ট্রাল ব্যাংক অনুমোদিত ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করুন। রেট যাচাই করে বড় অংকের টাকা একত্রে পাঠালে ফি বাঁচে এবং সরকারি ২.৫% প্রণোদনার পূর্ণ সুবিধা নিশ্চিত হয়।