ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড মেম্বারশিপ কার্ড ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ঋণের নিয়মাবলী ২০২৬

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক ভবন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ডিজিটাল স্মার্ট কার্ড ও সরকারি সেবার থ্রিডি দৃশ্য
প্রবাসী কর্মী ও তাঁদের পরিবারের কল্যাণে সরকারি প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক সুরক্ষা ও ঋণের সুযোগ।
⚡ সংক্ষিপ্ত উত্তর: ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড (WEWB) মেম্বারশিপ কার্ড বা প্রবাসী কল্যাণ কার্ড হলো বিদেশে কর্মরত ও বিদেশফেরত বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সরকারের প্রধান সামাজিক ও আর্থিক সুরক্ষা সনদ। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা বিদেশে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুতে পরিবারকে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার আর্থিক অনুদান, পঙ্গুত্ব বা অসুস্থতায় চিকিৎসা সহায়তা, সন্তানদের দেশে পড়াশোনার জন্য শিক্ষাবৃত্তি এবং হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আধুনিক প্রবাসী লাউঞ্জে বিনামূল্যে বিশ্রাম ও আপ্যায়নের সুবিধা পান। পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক (PKB) থেকে বিদেশ যাওয়ার জন্য জামানতবিহীন ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ‘অভিবাসন ঋণ’ এবং দেশে ফিরে ব্যবসা শুরুর জন্য সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ‘পুনর্বাসন ঋণ’ পাওয়ার ক্ষেত্রে এই নিবন্ধন অপরিহার্য।
🕒 সর্বশেষ হালনাগাদ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬
লিখেছেন ও যাচাই করেছেন: এ কে আজাদ, প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক, Taka Rate Today। প্রবাসী আয়, বৈদেশিক মুদ্রার রেট এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা নিয়ে নিয়মিত তথ্য যাচাই করেন। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি ও তথ্যসূত্র দেখুন।

১. ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড (WEWB) ও প্রবাসী কল্যাণ কার্ড পরিচিতি

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার মূল কারিগর হলেন বিদেশে কর্মরত সোয়া কোটিরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা। প্রবাসে কর্মসংস্থানকালে কোনো কর্মী দুর্ঘটনার শিকার হলে, অসুস্থ হলে কিংবা জীবনাবসান ঘটলে তাঁদের এবং তাঁদের দেশে থাকা পরিবারের পাশে রাষ্ট্রীয়ভাবে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে গঠিত হয় ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড (Wage Earners’ Welfare Board – WEWB)।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে স্মার্ট ইমিগ্রেশন কার্ড নিয়ে বা সরাসরি কল্যাণ বোর্ডের সদস্য ফি পরিশোধ করে প্রবাসীরা যে পরিচয়পত্র লাভ করেন, তাকে সাধারণভাবে ‘প্রবাসী কল্যাণ কার্ড’ বা ‘ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড মেম্বারশিপ কার্ড’ বলা হয়। এই কার্ডটি শুধুমাত্র প্রবাসে আপনার বৈধ অভিবাসনের প্রমাণ নয়, বরং এটি দেশে ও প্রবাসে বাংলাদেশ সরকারের অসংখ্য প্রত্যক্ষ নাগরিক ও আর্থিক সুবিধা পাওয়ার চাবিকাঠি।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ডিজিটাল বায়োমেট্রিক কার্ডের সাথে স্বাস্থ্যসেবা বীমা ও শিক্ষা আইকনের থ্রিডি উপস্থাপনা
প্রবাসী কল্যাণ কার্ড প্রবাসীদের জীবন বীমা, চিকিৎসা অনুদান ও সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি নিশ্চিত করে।

বৈধ পথে অর্থ পাঠিয়ে প্রবাসীরা কীভাবে সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করেন তা জানতে দেখুন আমাদের রেমিট্যান্স প্রণোদনা নীতিমালা গাইড। আর রেমিট্যান্সের ওপর কর অব্যাহতির বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পড়তে পারেন রেমিট্যান্সে শতভাগ করমুক্ত সুবিধা।

২. ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড কার্ডের সুবিধা: বীমা ও আর্থিক অনুদান

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের নিবন্ধিত একজন সদস্য হিসেবে একজন প্রবাসী কর্মী যেসকল সুনির্দিষ্ট সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা লাভ করেন, তা প্রবাস জীবনের প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে চরম নির্ভরতা জোগায়। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড কার্ডের সুবিধাগুলোর মধ্যে প্রধান প্রধান আর্থিক ক্ষেত্র নিচে তুলে ধরা হলো:

প্রধান আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষাসমূহ

  • মৃত্যুজনিত আর্থিক অনুদান: প্রবাসে কর্মরত অবস্থায় কোনো নিবন্ধিত কর্মী মৃত্যুবরণ করলে তাঁর পরিবারকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এককালীন ৩ লাখ থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়। এছাড়াও মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার সম্পূর্ণ খরচ বহন করা হয় অথবা বিদেশে দাফন করতে চাইলে নির্ধারিত দাফন খরচ প্রদান করা হয়।
  • বিমানবন্দর দাফন খরচ সহায়তা: মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর সাথে সাথে বিমানবন্দর প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক থেকে তাৎক্ষণিকভাবে দাফন-কাফনের জন্য নগদ ৩৫ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়।
  • জীবন বীমা সুবিধা: বাধ্যতামূলক প্রবাসী বীমা পলিসির আওতায় কোনো কর্মী মৃত্যুবরণ করলে তাঁর ওয়ারিশরা বীমা কোম্পানি থেকে নির্ধারিত অংকের জীবন বীমা দাবি আদায় করতে পারেন।
  • পঙ্গুত্ব বা অসুস্থতার ক্ষতিপূরণ: প্রবাসে কর্মস্থলে মারাত্মক দুর্ঘটনায় অঙ্গহানি হলে বা কর্মক্ষমতা হারালে কল্যাণ বোর্ড থেকে এককালীন বিশেষ আর্থিক ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করা হয়।

ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে ব্যাংকের সেবা কাঠামো ও নিরাপত্তা বুঝতে আমাদের ব্যাংক ওয়্যার বনাম এক্সচেঞ্জ হাউস বিশ্লেষণ দেখতে পারেন।

৩. প্রবাসী সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি ও চিকিৎসা সহায়তা অনুদান নির্দেশিকা

প্রবাসীদের সন্তানদের মেধা বিকাশ ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করে থাকে। পিতা বা মাতা প্রবাসে বৈধ কর্মী হিসেবে কর্মরত থাকলে বা প্রবাসী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে তাঁদের সন্তানরা এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারেন।

শিক্ষার স্তর যোগ্যতার মানদণ্ড বার্ষিক বৃত্তির পরিমাণ (আনুমানিক) এককালীন বই ক্রয় অনুদান
পিএসসি / প্রাথমিক সমাপনী জিপিএ ৪.০০ বা তদূর্ধ্ব প্রতি বছর প্রায় ১২,০০০ টাকা ২,০০০ টাকা
জেএসসি / জুনিয়র সমাপনী জিপিএ ৪.০০ বা তদূর্ধ্ব প্রতি বছর প্রায় ১৫,০০০ টাকা ২,৫০০ টাকা
এসএসসি / দাখিল বিজ্ঞান বিভাগে ৪.৫০, অন্যান্য বিভাগে ৪.০০ প্রতি বছর প্রায় ২৪,০০০ টাকা ৩,০০০ টাকা
এইচএসসি / আলিম বিজ্ঞান বিভাগে ৪.৫০, অন্যান্য বিভাগে ৪.০০ প্রতি বছর প্রায় ৩০,০০০ টাকা ৪,০০০ টাকা
স্নাতক / মেডিকেল / ইঞ্জিনিয়ারিং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারি কলেজে অধ্যয়নরত প্রতি বছর প্রায় ৩৬,০০০ থেকে ৪৮,০০০ টাকা ৫,০০০ টাকা

আবেদনের প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস

  1. শিক্ষার্থীর পিতা বা মাতার বিএমইটি স্মার্ট কার্ড বা কল্যাণ বোর্ডের মেম্বারশিপ সনদের সত্যায়িত ফটোকপি।
  2. শিক্ষার্থীর সর্বশেষ পরীক্ষার মূল মার্কশিট ও প্রশংসাপত্রের কপি।
  3. বর্তমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের প্রত্যয়নপত্র।
  4. জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস (DEMO) অথবা কল্যাণ বোর্ডের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (wewb.gov.bd) থেকে নির্ধারিত ফরম পূরণ করে জমা দিতে হয়।

৪. বিমানবন্দরে প্রবাসী লাউঞ্জ ও ভিআইপি সেবা প্রাপ্তির নিয়ম

প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের দীর্ঘদিনের সম্মানজনক দাবির প্রেক্ষিতে রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (HSIA) সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অত্যাধুনিক ‘প্রবাসী লাউঞ্জ’ সেবা চালু করা হয়েছে। বিদেশগামী বা বিদেশ থেকে আগত যেকোনো বৈধ প্রবাসী কর্মী এই লাউঞ্জের সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন।

ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আধুনিক প্রবাসী লাউঞ্জের আরামদায়ক রিক্লাইনার বসার আসন ও রিফ্রেশমেন্টের থ্রিডি চিত্র
শাহজালাল বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য বিনামূল্যে বিশ্রাম, চা-কফি ও লাগেজ সহায়তা কেন্দ্র।

প্রবাসী লাউঞ্জে প্রবাসীরা যেসকল সেবা বিনামূল্যে পান

  • আরামদায়ক বিশ্রামাগার: ফ্লাইট বিলম্ব হলে বা কানেক্টিং ফ্লাইটের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হলে প্রবাসীরা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আধুনিক রিক্লাইনার সোফায় বিশ্রাম নিতে পারেন।
  • বিনামূল্যে নাশতা ও খাবার: যাত্রীদের জন্য চা, কফি, বিস্কুট এবং হালকা স্বাস্থ্যকর জলখাবারের ব্যবস্থা থাকে।
  • ফ্রি ওয়াই-ফাই ও মোবাইল চার্জিং: পরিবারের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখার জন্য হাই-স্পিড ইন্টারনেট ও ডিভাইস চার্জিং স্টেশন উন্মুক্ত থাকে।
  • ইমিগ্রেশন ও লাগেজ সহায়তা: প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের বিশেষায়িত হেল্প টিম প্রবাসীদের ফরম পূরণ, ই-গেট ব্যবহার এবং লাগেজ খুঁজে পেতে প্রত্যক্ষ সহায়তা প্রদান করে।

৫. প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক (PKB) ঋণ পাওয়ার নিয়ম ২০২৬: অভিবাসন ও পুনর্বাসন

প্রবাসী কর্মীদের দালালের খপ্পর ও চড়া সুদের মহাজনি ঋণ থেকে রক্ষা করতে বাংলাদেশ সরকার শতভাগ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিশেষায়িত তফসিলি ব্যাংক হিসেবে ‘প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক’ (Probashi Kallyan Bank – PKB) প্রতিষ্ঠা করেছে। ব্যাংকটি প্রধানত দুই ক্যাটাগরিতে ঋণ বিতরণ করে থাকে:

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের অভিবাসন ঋণ ও পুনর্বাসন ঋণের কৃষি বা ব্যবসার থ্রিডি দৃশ্য
বিদেশযাত্রা ও দেশে ফিরে ব্যবসা শুরু—দুই পর্যায়েই সহজ শর্তে স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা।

১. অভিবাসন ঋণ (Migration Loan)

যাঁরা কাজের বৈধ ভিসা পেয়েছেন কিন্তু বিমান টিকিট ও আনুষঙ্গিক খরচের টাকার অভাবে বিদেশ যেতে পারছেন না, তাঁদের জন্য অভিবাসন ঋণ দেওয়া হয়। জামানতবিহীন (Collateral-free) ঋণ হিসেবে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়, যার সুদের হার সাধারণ বাণিজ্যিক ব্যাংকের চেয়ে অনেক কম। এর জন্য বৈধ ভিসা, কর্মসংস্থান চুক্তিপত্র এবং বিএমইটি ইমিগ্রেশন কার্ড আবশ্যক।

২. পুনর্বাসন ঋণ (Rehabilitation Loan for Returnees)

প্রবাস জীবন শেষ করে স্থায়ীভাবে দেশে ফিরে আসা কর্মীরা যাতে বেকার বসে না থেকে উদ্যোক্তা হতে পারেন, সেজন্য পুনর্বাসন ঋণ দেওয়া হয়। কৃষি খামার, ডেইরি ফার্ম, মৎস্য চাষ, ওয়ার্কশপ, আইটি সেন্টার বা যেকোনো উৎপাদনশীল ব্যবসার জন্য সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ মঞ্জুর করা হয়। ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সহজ জামানতে এবং ৫ লাখের বেশি অংকের ক্ষেত্রে রেজিস্টার্ড মর্টগেজ প্রয়োজন হয়।

ঋণের ধরন সর্বোচ্চ সীমা জামানতের শর্ত পরিশোধের মেয়াদকাল মূল উদ্দেশ্য
অভিবাসন ঋণ ৩,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত ব্যক্তিগত জামিনদার (জামানতহীন) সাধারণত ১ থেকে ৩ বছর বিমান টিকিট ও ভিসা প্রসেসিং খরচ মেটানো
সহজ পুনর্বাসন ঋণ ৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত পারিবারিক সহজ জামানত ৩ থেকে ৫ বছর (গ্রেস পিরিয়ডসহ) ছোট দোকান, খামার বা স্থানীয় ব্যবসা শুরু
প্রকল্প পুনর্বাসন ঋণ ৫০,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত স্থাবর সম্পত্তির রেজিস্টার্ড মর্টগেজ প্রকল্পভেদে ৫ থেকে ১০ বছর মাঝারি শিল্প কারখানা, পোল্ট্রি বা বৃহৎ প্রকল্প

বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রেরণের প্রক্রিয়া জানতে পড়ুন আমাদের ইসলামী ব্যাংকে রেমিট্যান্স জমা গাইড এবং অন্যান্য সাধারণ ব্যাংকিং সুবিধার জন্য দেখুন আমাদের ব্যাংক রেমিট্যান্স হাব।

৬. ঋণ অনুমোদনে বৈধ রেমিট্যান্স স্টেটমেন্টের গুরুত্ব ও হুন্ডি প্রতিরোধের শর্ত

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে পুনর্বাসন ঋণ পাওয়ার অন্যতম প্রধান বাধ্যতামূলক শর্ত হলো, আবেদনকারীকে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি বিদেশে থাকাকালীন বৈধ ব্যাংকিং বা অনুমোদিত এক্সচেঞ্জ হাউসের মাধ্যমে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।

ব্যাংক রেমিট্যান্স স্টেটমেন্ট পাসপোর্ট ও সরকারি ঋণের সবুজ অনুমোদন সিলের থ্রিডি দৃশ্য
বৈধ চ্যানেলে পাঠানো রেমিট্যান্সের ব্যাংক স্টেটমেন্টই সরকারি ঋণ ও প্রণোদনা প্রাপ্তির প্রধান প্রমাণপত্র।

ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও বৈধতার প্রমাণাদি

  • রেমিট্যান্স সার্টিফিকেট: বাংলাদেশের যে ব্যাংকে আপনার প্রেরিত টাকা জমা হয়েছে, সেই ব্যাংক থেকে ইস্যুকৃত ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স সার্টিফিকেট অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবের বিগত ২-৩ বছরের পরিষ্কার স্টেটমেন্ট যুক্ত করতে হবে।
  • ২.৫% প্রণোদনার প্রতিফলন: স্টেটমেন্টে প্রতিটি রেমিট্যান্সের সাথে সরকারের ২.৫% নগদ প্রণোদনা জমার রেকর্ড থাকলে ব্যাংক ঋণ আবেদন অত্যন্ত দ্রুত মঞ্জুর করে।
  • রেমিট্যান্স হিসাবের ক্যালকুলেটর: আপনার পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রায় কত টাকা জমেছে তা নিয়মিত নিরীক্ষা করতে ব্যবহার করুন আমাদের রেমিট্যান্স ক্যালকুলেটর।
  • লাইভ রেট অনুসরণ: প্রতিদিনের ব্যাংকিং বিনিময় হার যাচাইয়ের নির্দেশিকা দেখুন লাইভ এক্সচেঞ্জ রেট চেক করার নিয়ম।
⚠️ হুন্ডি প্রবাসীদের সরকারি সকল অধিকার কেড়ে নেয়: আপনি যদি প্রবাসে কষ্ট করে উপার্জিত অর্থ হুন্ডি বা চোরাই পথে দেশে পাঠিয়ে থাকেন, তবে কোনো ব্যাংক স্টেটমেন্ট তৈরি হবে না। ফলে দেশে ফিরে এসে আপনি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে কোনো পুনর্বাসন ঋণ পাবেন না, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অনুদান বা বীমা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন এবং আপনার সন্তানেরাও সরকারি শিক্ষাবৃত্তি পাবে না। নিজের ও পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় হুন্ডি সম্পূর্ণরূপে বর্জন করুন। রেমিট্যান্স পাঠানোর পূর্বে আমাদের নিরাপদ রেমিট্যান্স চেকলিস্ট অবশ্যই দেখে নিন।
📱 আজকের টাকার রেট অ্যাপ
বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে ২.৫% সরকারি নগদ প্রণোদনা লাভ এবং ব্যাংক ঋণের যোগ্যতা অর্জন করতে আমাদের ফ্রি রেমিট্যান্স ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন।

গুগল প্লে থেকে ডাউনলোড

৭. বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড কার্ডের মূল সুবিধা কী?

প্রধান সুবিধার মধ্যে রয়েছে প্রবাসে মৃত্যুতে পরিবারকে ৩-৪ লাখ টাকা অনুদান, বিমানবন্দর থেকে মরদেহ পরিবহনে ৩৫ হাজার টাকা, জীবন বীমা দাবি, সন্তানদের বার্ষিক শিক্ষাবৃত্তি, অসুস্থতায় চিকিৎসা সহায়তা এবং শাহজালাল বিমানবন্দরে ফ্রি প্রবাসী লাউঞ্জ ব্যবহার।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে অভিবাসন ঋণ পেতে কত জামানত লাগে?

বিদেশে যাওয়ার জন্য ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত অভিবাসন ঋণে কোনো স্থাবর সম্পত্তির জামানত লাগে না। অভিভাবক বা নিকটাত্মীয়ের ব্যক্তিগত নিশ্চয়তা বা জামিনদারির ভিত্তিতেই এই ঋণ অনুমোদন করা হয়।

প্রবাসী সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তির জন্য কখন আবেদন করতে হয়?

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড সাধারণত প্রতি বছর জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ও তাদের ওয়েবসাইটে (wewb.gov.bd) সার্কুলার প্রকাশ করে। সাধারণত বছরের শুরুতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জেলা জনশক্তি অফিস বা অনলাইনে আবেদন জমা দিতে হয়।

শাহজালাল বিমানবন্দরের প্রবাসী লাউঞ্জ ব্যবহার করতে কি কোনো ফি লাগে?

না, বৈধ কাগজপত্র ও পাসপোর্টধারী যেকোনো প্রবাসী যাত্রীর জন্য বিমানবন্দরে প্রবাসী লাউঞ্জ ব্যবহার, বিশ্রাম গ্রহণ এবং রিফ্রেশমেন্ট সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়।

বিদেশে অবৈধভাবে থাকা কর্মীরা কি কল্যাণ বোর্ডের সুবিধা পাবেন?

যাঁদের বৈধ বিএমইটি ইমিগ্রেশন কার্ড বা কল্যাণ বোর্ডের সক্রিয় সদস্যপদ নেই, তাঁরা বোর্ডের নিয়মিত আর্থিক সুবিধা দাবি করতে পারেন না। তবে মানবিক বিবেচনায় সরকার মরদেহ দেশে আনা ও বিশেষ তহবিল থেকে সীমিত সহায়তা প্রদান করে থাকে।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের পুনর্বাসন ঋণের সুদের হার কত?

বিদেশফেরত প্রবাসীদের দ্রুত স্বাবলম্বী করতে পুনর্বাসন ঋণের সুদের হার অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের তুলনায় কম রাখা হয়, যা সাধারণত ৪% থেকে ৯% এর মধ্যে নির্ধারিত থাকে।

ℹ️ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও দায়মুক্তি: এই লেখার রেট, ফি, সীমা ও সময় শুধু ধারণা দেওয়ার জন্য এবং প্রকাশের তারিখের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে লেখা। মুদ্রার রেট প্রতিনিয়ত বদলায় এবং প্রতিষ্ঠানগুলো যে কোনো সময় নিয়ম পরিবর্তন করতে পারে। Taka Rate Today কোনো ব্যাংক, এক্সচেঞ্জ হাউস বা আর্থিক উপদেষ্টা নয় এবং কোনো লেনদেন পরিচালনা করে না। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড (WEWB) ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক (PKB) থেকে চূড়ান্ত তথ্য নিশ্চিত হয়ে নিন। বিস্তারিত জানতে আমাদের দায়মুক্তি নীতি দেখুন।

উপসংহারে, বিদেশে কর্মরত প্রত্যেক বাংলাদেশি নাগরিকের উচিত বিএমইটি স্মার্ট কার্ড ও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্যপদ হালনাগাদ রাখা। একইসাথে ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠিয়ে ২.৫% সরকারি প্রণোদনা বুঝে নেওয়া এবং রেমিট্যান্সের স্পষ্ট স্টেটমেন্ট সংরক্ষণ করা, যা দেশে ফিরে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের আর্থিক সুবিধা ও উদ্যোক্তা ঋণ পেতে সবচেয়ে কার্যকর সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।